শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

আরও কারো দায়িত্ব আছে কি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের অনেকেই যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। সুচিকিৎসা থেকে তারা বঞ্চিত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলীতে আহত হয়েছিলেন শাহ আলম (৫৫)। তিনি রংপুর সিটি করপোরেশনের আমাশু কুখরুল খটখটিয়ার আবুল শাদি মিয়ার ছেলে। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহ আলম রংপুর সিটি বাজারে পান-সুপারির ব্যবসা করতেন। গত ১৯ জুলাই রংপুর সিটি বাজারের সামনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে গুলী করে পুলিশ। তখন গুলীবিদ্ধ হন শাহ আলম। এতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সুচিকিৎসা না পাওয়ায় ছাড়পত্র নিয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হন শাহ আলম। এরপর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন কিংবা অন্য কেউ তার কোনো খোঁজখবর নেননি বলে জানানো হয় পত্রিকার প্রতিবেদনে। বর্তমানে তিনি রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। ধারদেনা করে চিকিৎসা করলেও বর্তমানে অর্থাভাবে ঠিকভাবে তার চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। অর্থসংকটে বিপাকে পড়েছে শাহ আলমের পরিবার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শাহ আলম গুলীবিদ্ধ হয়ে উপার্জন করতে না পারায় তার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। শাহ আলমের শরীরে এখনো রয়েছে ছররা গুলী ও রাবার বুলেটের স্প্লিন্টার। ফলে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে তাকে দিন কাটাতে হচ্ছে।

রংপুরের শাহ আলমের মতো আরও অনেকের যন্ত্রণার প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকার পাতায়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তো জুলাই বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে এবং তাদের তৎপরতার কিছু খবরও আমরা গণমাধ্যমে লক্ষ্য করেছি। আবার চিকিৎসা না পাওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে সংকটটা কোথায়? এখানে কি তথ্য সংকট রয়েছে, কিংবা রয়েছে উদ্যোগ বা ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা? বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ নতুন বাংলাদেশে কথা ও কাজে মিল থাকবে, এটাই ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা।

যে কোনো সমস্যা বা সংকটে আমরা সহজেই কর্তৃপক্ষ বা সরকারের দিকে অঙুলি নির্দেশ করতে পারি। কিন্তু এর বাইরে কি আর কারো কোনো দায়িত্ব থাকতে পারে, যেমন জনগণ কিংবা নাগরিকের? বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ সিফাত উল্লাহর পরিবারের জন্য অনুমোদিত অনুদানের টাকা তারা পাননি। প্রতারণার মাধ্যমে তা আত্মসাৎ করেছেন কিছু নাগরিক। এখন তাদেরকে আমরা বলছি প্রতারক। এই চক্রের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। ১৮ অক্টোবর গ্রেফতার হওয়া আকাশ ব্যাপারী (২১) মাদারীপুরের দত্তপাড়া চৌধুরী কান্দি গ্রামের ইসকান ব্যাপারীর ছেলে। আইন তো তার পথে অগ্রসর হবে, কিন্তু সমাজকে প্রতারণামুক্ত রাখতে পরিবারের কি কোনো কর্তব্য নেই? অপরাধীরাু তো কোনো না কোনো পরিবারেই বাস করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ